খাদ্য ও পুষ্টি

ki khele ghum asbe na: রাতের ঘুম নষ্ট করে এমন ১০টি খাবার ও পানীয়

ki khele ghum asbe na: রাতের ঘুম নষ্ট করে এমন ১০টি খাবার ও পানীয়

ki khele ghum asbe na? চা, কফি, কোলা, ঝাল ও ভারী খাবারসহ রাতের ঘুম নষ্ট করে এমন ১০টি খাবার এবং ভালো ঘুমের সহজ টিপস জেনে নিন।

অনেকেই গুগলে খোঁজেন ki khele ghum asbe na, অর্থাৎ কোন খাবার খেলে ঘুম আসে না।

উদ্দেশ্য হলো সেই খাবারগুলো চিনে এড়িয়ে চলা। এই লেখায় আমাদের দেশের খাদ্যাভ্যাস মাথায় রেখে ঘুম নষ্ট করে এমন খাবার ও পানীয়ের কথা বলা হলো। 

শেষে ভালো ঘুমের জন্য কিছু সহজ পরামর্শও আছে।

ki khele ghum asbe na: তালিকার প্রথম নাম চা

পাড়ার মোড়ের টং দোকানের চা আমাদের আড্ডার প্রাণ। কিন্তু চায়ে থাকা ক্যাফেইন মস্তিষ্ককে সতর্ক রাখে এবং ঘুমের সংকেত আটকে দেয়। ক্যাফেইন শরীরে কয়েক ঘণ্টা সক্রিয় থাকে। তাই সন্ধ্যা ৬টায় খাওয়া কড়া দুধ চাও রাত ১২টায় আপনাকে জাগিয়ে রাখতে পারে। 

যাঁদের ঘুমের সমস্যা আছে, তাঁরা বিকেল ৪টার পর চা এড়িয়ে চলুন।

কফি ও এনার্জি ড্রিংক

শহরে কফি শপের সংখ্যা বাড়ছে, সঙ্গে বাড়ছে রাতজাগা তরুণদের সংখ্যা। কফিতে চায়ের চেয়ে বেশি ক্যাফেইন থাকে। পরীক্ষার সময় বা অফিসের ডেডলাইনে অনেকে এনার্জি ড্রিংকের ওপর নির্ভর করেন। 

এগুলোতে ক্যাফেইনের সঙ্গে প্রচুর চিনিও থাকে, যা ঘুমের জন্য দ্বিগুণ ক্ষতিকর। এনার্জি ড্রিংক শরীরকে সাময়িক চাঙ্গা করে, কিন্তু পরে ঘুমের ছন্দ এলোমেলো করে দেয়।

কোলা ও কার্বনেটেড সফট ড্রিংক

দাওয়াত বা রাতের খাবারের সঙ্গে কোলা জাতীয় পানীয় প্রায় অপরিহার্য হয়ে গেছে। অনেকে জানেন না যে কোলায় ক্যাফেইন থাকে। এতে থাকা অতিরিক্ত চিনি রক্তে শর্করা বাড়িয়ে দেয়, আর গ্যাসের কারণে পেট ফাঁপা ও অস্বস্তি হয়। 

শোয়ার আগে এই পানীয় খেলে ঘুম আসতে দেরি হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

চকলেট ও চকলেট জাতীয় খাবার

চকলেটে ক্যাফেইন ও থিওব্রোমিন নামে দুটি উদ্দীপক উপাদান থাকে। বিশেষ করে ডার্ক চকলেটে এর পরিমাণ বেশি। রাতে চকলেট কেক, চকলেট আইসক্রিম বা চকলেট মিল্কশেক খাওয়ার অভ্যাস থাকলে ঘুমের মান কমে যেতে পারে। 

এই ধরনের খাবার দিনের বেলায় খাওয়াই ভালো।

ঝাল ও মসলাদার খাবার

বাংলাদেশিরা ঝাল খেতে ভালোবাসেন। ভুনা গরুর মাংস, ঝাল তরকারি, কাঁচা মরিচ দিয়ে মাখানো ভর্তা বা ঝালমুড়ি রাতে খেলে সমস্যা হতে পারে। ঝাল খাবার শরীরের তাপমাত্রা বাড়ায়, অথচ ঘুমের জন্য শরীরের তাপমাত্রা কিছুটা কমা দরকার। 

এছাড়া বুক জ্বালাপোড়া ও অ্যাসিডিটির কারণে শুয়ে থাকা কষ্টকর হয়ে ওঠে।

তেলে ভাজা খাবার

রাতে সিঙাড়া, সমুচা, পুরি, বেগুনি, পেঁয়াজু বা পরোটা-ভাজির অভ্যাস অনেকেরই আছে।

তেলে ভাজা খাবার হজম হতে অনেক সময় লাগে। পেট ভরা অবস্থায় শুলে হজমপ্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায় এবং অস্বস্তিতে ঘুম ভেঙে যেতে পারে। 

তাই রাতের খাবার যতটা সম্ভব হালকা রাখা ভালো।

বিরিয়ানি, কাচ্চি ও মাংসের ভারী পদ

বিয়েবাড়ি বা রেস্তোরাঁয় রাতে বিরিয়ানি, কাচ্চি, তেহারি আর রেজালার মতো খাবার এখন সাধারণ ব্যাপার।

এসব খাবারে প্রচুর তেল, ঘি, মসলা ও প্রোটিন থাকে। ফলে শরীরের পুরো শক্তি হজমে ব্যস্ত থাকে এবং ঘুম গভীর হয় না। 

প্রায়ই দেখা যায়, ভারী খাবারের পর মাঝরাতে তৃষ্ণা পায় আর বারবার ঘুম ভাঙে।

মিষ্টি ও চিনিযুক্ত খাবার

রসগোল্লা, জিলাপি, গুলাব জামুন, পায়েস বা মিষ্টি দইয়ের স্বাদ সবারই প্রিয়। কিন্তু রাতে বেশি চিনি খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যায়, আবার দ্রুত কমেও যায়। এই ওঠানামা মাঝরাতে ঘুম ভাঙিয়ে দিতে পারে। 

ডায়াবেটিসের ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের এ বিষয়ে বাড়তি সতর্ক থাকা উচিত।

ফাস্টফুড ও স্ট্রিট ফুড

ফুচকা, চটপটি, বার্গার, পিৎজা, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই ও নুডলসে সাধারণত লবণ, তেল ও মসলা বেশি থাকে।

বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা শেষে রাত ১০-১১টায় এসব খেয়ে বাড়ি ফেরা অনেকের অভ্যাস। অতিরিক্ত লবণ শরীরে পানি ধরে রাখে এবং অস্বস্তি বাড়ায়। 

সঙ্গে ভারী খাবারের সমস্যা তো আছেই, ফলে গভীর ঘুম পেতে সমস্যা হয়।

ট্রাইগ্লিসারাইড কমানোর ঘরোয়া উপায়

শোয়ার ঠিক আগে অতিরিক্ত পানি বা তরল

রাতে শোয়ার ঠিক আগে অনেক পানি, শরবত বা ডাবের পানি পান করলে বারবার প্রস্রাবের জন্য উঠতে হতে পারে।

এতে ঘুম ভাঙে এবং ঘুমের ধারাবাহিকতা নষ্ট হয়। পানি শরীরের জন্য জরুরি, 

তবে সারাদিনে পর্যাপ্ত পান করে রাখুন এবং শোয়ার এক-দুই ঘণ্টা আগে থেকে পরিমাণ কমিয়ে দিন।

রাতের বেলা অতিরিক্ত বা দেরিতে খাওয়া

শুধু নির্দিষ্ট খাবার নয়, খাওয়ার সময় ও পরিমাণও ঘুমের ওপর প্রভাব ফেলে। রাত ১১-১২টায় পেট ভরে খেয়ে সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে পড়লে হজম ঠিকমতো হয় না। এতে গ্যাস, অ্যাসিডিটি ও অস্বস্তি দেখা দেয়। 

ঢাকা বা চট্টগ্রামের মতো শহরে দেরি করে অফিস থেকে ফিরে রাতে খাওয়ার প্রবণতা বেশি, তাই এই সমস্যাও বেশি দেখা যায়।

ki khele ghum asbe na

রমজান মাসে ঘুমের সমস্যা কেন বেশি হয়?

রমজানে সেহরি ও ইফতারের সময়ের কারণে স্বাভাবিক ঘুমের রুটিন বদলে যায়। ইফতারে ভাজাপোড়া, জিলাপি, হালিম ও ঝাল খাবার বেশি খাওয়া হয়। আবার তারাবির পর রাতে ভারী খাবার বা চা-কফি খাওয়ার প্রবণতাও দেখা যায়। ফলে অনেকেই অনিদ্রায় ভোগেন। 

ইফতারে খেজুর, শরবত, ফল ও হালকা খাবার বেছে নিলে এবং তারাবির পর ক্যাফেইন এড়ালে ঘুমের মান ভালো থাকে।

ভালো ঘুমের জন্য কী করবেন?

কি খেলে ঘুম আসবে না জানার পাশাপাশি কী করলে ঘুম ভালো হবে, সেটাও জানা দরকার। নিচের অভ্যাসগুলো মেনে চলতে পারেন।

  • রাতের খাবার তাড়াতাড়ি খান। শোয়ার অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টা আগে খাওয়া শেষ করুন, যাতে হজমের সময় পাওয়া যায়।
  • হালকা খাবার বেছে নিন। ভাত, সবজি, ডাল বা সেদ্ধ মাছের মতো সহজপাচ্য খাবার রাতে ভালো।
  • কুসুম গরম দুধ খেতে পারেন। অনেকের ক্ষেত্রে এটি শরীরকে শান্ত করতে সাহায্য করে। তবে দুধে সমস্যা থাকলে এড়িয়ে চলুন।
  • কলা বা অন্য ফল রাখুন। রাতে খুব খিদে পেলে একটি কলা বা অল্প ফল খেতে পারেন।
  • ক্যাফেইনের সময় ঠিক করুন। বিকেলের পর চা, কফি ও কোলা বাদ দেওয়ার চেষ্টা করুন।
  • স্ক্রিন থেকে দূরে থাকুন। ঘুমের অন্তত আধা ঘণ্টা আগে মোবাইল, টিভি ও ল্যাপটপ বন্ধ রাখুন।
  • নিয়মিত সময়ে ঘুমান। প্রতিদিন একই সময়ে শুতে গেলে এবং উঠলে শরীর স্বাভাবিক ছন্দে অভ্যস্ত হয়।
  • দিনের বেলা হাঁটাহাঁটি করুন। নিয়মিত হালকা ব্যায়াম বা হাঁটা ঘুম আসতে সাহায্য করে।

ki khele ghum asbe na: সাধারণ কিছু প্রশ্ন

ki khele ghum asbe na, এটা কি সবার জন্য একই রকম?
না। ক্যাফেইনের প্রতি সংবেদনশীলতা একেকজনের একেক রকম। কারও জন্য রাতের এক কাপ চা সমস্যা না হলেও অন্যজনের পুরো রাতের ঘুম নষ্ট করে দিতে পারে। নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া লক্ষ করুন।

রাতে ভাত খেলে কি ঘুম আসে না?
সাধারণত না। পরিমিত ভাত রাতে খাওয়া যায়। সমস্যা হয় অতিরিক্ত তেল-মসলা বা বেশি পরিমাণে খেলে।

রাতে খিদে পেলে কী খাব?
এক গ্লাস কুসুম গরম দুধ, একটি কলা বা এক টুকরো পাকা পেঁপে হালকা বিকল্প হতে পারে।

অনিদ্রা কতদিন চললে ডাক্তার দেখাতে হবে?
সপ্তাহে তিন-চার দিন ঘুমের সমস্যা হলে এবং তা কয়েক সপ্তাহ চললে একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। থাইরয়েড, ডায়াবেটিস, মানসিক চাপ বা স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো সমস্যাও অনিদ্রার পেছনে থাকতে পারে।

ki khele ghum asbe na প্রশ্নের উত্তর খুঁজলে দেখা যায়, চা, কফি, কোলা, চকলেট, ঝাল-মসলাদার খাবার, তেলে ভাজা পদ, ভারী মাংস-ভাত, বেশি মিষ্টি এবং রাতের ফাস্টফুড আমাদের ঘুমের বড় শত্রু। শুধু কী খাচ্ছেন তা নয়, কখন খাচ্ছেন তাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

আজ থেকেই ছোট একটি পরিবর্তন দিয়ে শুরু করতে পারেন, যেমন বিকেলের পর চা বাদ দেওয়া বা রাতের খাবার একটু আগে সেরে ফেলা। কয়েক দিনের মধ্যেই ঘুমের মানে পার্থক্য টের পাবেন। 

তবে দীর্ঘদিন ধরে অনিদ্রা থাকলে নিজে নিজে সমাধান খোঁজার বদলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

দ্রষ্টব্য: এই লেখা সাধারণ তথ্যের জন্য, কোনো চিকিৎসা পরামর্শ নয়।

আরও জানুন…

থাইরয়েড টেস্ট কি খালি পেটে করতে হয়? সম্পূর্ণ গাইড

রামদেবের হার্টের ব্যায়াম: সহজ যোগ ও প্রাণায়াম গাইড

একটি মন্তব্য লিখুন